তুই শুধুই আমার

জানিস অনেক দিন হয়ে গেল তোর সঙ্গে দেখা হয়নি। তোর সঙ্গে দেখা করব বলে তোদের বাড়িতে চলে গেলাম, গিয়ে দেখি কাকিমা রান্নাঘরে, কাকিমাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম সে কোথায়? কাকিমা আমাকে তোর ঘরটা দেখিয়ে বলল ওখানে। আমি তোর রুমের দিকে এগোলাম। গিয়ে দেখি ঘরের দরজাটা আল্টো করে ভেজানো। দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। গিয়ে দেখি তুই ঘুমাচ্ছিস। পশ্চিমের রোদ্দুরটা জানালা দিয়ে তোর মুখের উপর পড়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় তোর ওই নিঃস্পাপ মুখটা যে কি সুন্দর লাগছিল তা শুধু আমি জানি। তোর মুখে রোদটা এসে পড়ছিল বলে জানালাটা হালকা বন্ধ করলাম। বন্ধ করে তোর পাশে ঠিক বসতে যাব তখনই কাকিমা ঘরের মধ্যে ঢুকে এলেন। তোকে ঠিক ডাকতে যাবে তখনই আমি বললাম চুপ, ঘুমোচ্ছে। এই কথা বলতে কাকিমা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কাকিমা বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি লক্ষ করলাম তোর বইগুলো ছড়ানো ছেটানো। আমি তোর একটা বই নিয়েছি। বইটা খুলতে যাবো লক্ষ করলাম তোর বইয়ের থেকে একটা কাগজ পড়ে গেল। ওই কাগজটা তুলে পড়তে লাগলাম, পড়ার শেষে নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি, কারন চিঠিটার মধ্যে লেখাছিল তুই অন্য কাউকে ভালোবাসিস। চোখের জলটাকে কোনো রকম সামলে মুখে হাসি নিয়ে তোর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কাকিমাকে বললাম আমি আজ আসি, ঘুমোচ্ছে। এই বলে বেরিয়ে এলাম তোর বাড়ি থেকে। কিন্তু এর মধ্যে আশ্চর্য ব্যাপার হল কাকিমা সেদিন হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন আমি কোনো কারণে ভেঙে পড়েছি। কারন কাকিমা যে মা, মা তো সন্তানের কষ্ট বুঝবেই। তাই আমাকে ফোন করে ডেকে পাঠালেন। আমি যেতে চাইছিলাম না, কিন্তু বারবার কাকিমা করতে আমি আর ফেলতে পারিনি কাকিমার কথা। আমি গেলাম তোর বাড়িতে, গিয়ে দেখি তুই বাড়িতে বসে আছিস। ফোনটা নিয়ে কি যেন করে চলেছিস। তখনই কাকিমা আমাকে দেখে বলল এসেছিস, আয়।  তুই আমাকে দেখে বললি তুই সেদিন এসে চলে গেলি, ডাকলি না কেন? আমি বললাম তুই ঘুমোচ্ছিলিস তাই। কাকিমা আমায় বলল আয় আমার কাছে। তুই আমায় বললি আমার ঘরে একটু আয়তো। এই বলে তুই তোর ঘরে চলে গেলি। আমি তোর ঘরে ঢুকতে একটু ইতঃস্তত বোধ করলাম। কাকিমা আমায় দেখে বুঝতে পেরে বলল যার ঘরে দুদিন আগে ঢুকতে কোন ইতঃস্তত বোধ ছিলনা, আজ তার ঘরে ঢুকতে এত ইতঃস্তত বোধ করছিস কেন? কাকিমা আমায় বলল যা ওর ঘরে যা। আমি তোর ঘরে গেলাম। তুই বললি বোস। বসলাম এক কোনে। তুই বললি ওখানে বলছিস কেন, এখানে আমার কাছে এসে বোস। আমি বললাম এখানে ঠিক আছি। কিন্তু তুই জোর করে  ডেকে তোর কাছে বসালি। তুই আমাকে অনেক কিসব বলছিলি, আমি শুধু মাথা নাড়ছিলাম, কিন্তু কি বলছিলি কোনো কানে ঢোকেনি। কথা শেষে আমি তোর ঘর থেকে বেরোতে যাব, তখন তুই আমায় জিজ্ঞাসা করলি, আচ্ছা আমি এতক্ষন ধরে কি বললাম বলতো? আমি কিছুই বলতে পারিনি, তুই বললি আমি জানি তুই কিছু শুনিসনি। আমি আবার তোর রুম থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছি, তখন তুই আমায় বললি যাকে তুই এত ভালোবাসিস তার ওপর তোর এত অভিমান। আমি তোর কথা শুনে আশ্চর্য হলাম। তুই উঠে এসে দরজাটা বন্ধ করলি। তারপর আমার হাতটা ধরে ঠেলে নিলি তোর কাছের দিকে। আমি অবাক হলাম। তুই বললি অবাক হচ্ছিস, আমাকে এত ভালোবাসিস যে আমার বিপরীতে অন্য মানুষটাকে মেনে নিতে পারিসনা। আমি বললাম কি বলছিস তুই এসব, তুই বললি কেন কিছু ভুল বললাম। তুই বললি আচ্ছা তুই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতো আমি কিছু ভুল বলেছি। আমি কিছুই বলতে পারলাম না তোকে। তোকে জিজ্ঞাসা করলাম, তোর সে কেমন আছে? তুই বললি  ভালো, আমি শুনে আরও  থাকতে পারিনি। আমি দরজাটা খুলতে যাব, তুই বললি থাক খুলিসনা। আমি বললাম বাড়ি যাই এবার, তুই বললি কেন এখানে থাকতে ভালো লাগছেনা বুঝি। আমি বললাম তা নয়। তুই বললি তাহলে কি? কষ্ট হচ্ছে আমার কাছে থাকতে? আমি বললাম তা হবে কেন? এইভাবে দুজনের মনমালিন্য চলতে চলতে তুই বলে উঠলো তুই সেদিন আমার চিঠি খানা পড়েছিলিস? আমি বললাম কে বলল? তুই বললি বল। আমি বললাম বইটা নিতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিল তাই পড়ে ফেলেছি, sorry. তুই বললি sorry কেন? তুই আমার সব পড়বিনা তো কে পড়বে? আমি হরবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কে বলল তোকে, তুই বললি কেউ বলেনি আমি দেখেছি। আমি বললাম তুই তো ঘুমোচ্ছিলি, তাহলে। তুই হেসে বললি আমি তোকে দেখে ছুটে গিয়ে ওই বইগুলো এলোমেলো করে রেখে ওর মধ্যে চিঠিটা রেখে শুয়ে ঘুমোনোর ভান করছিলাম। জানি তুই এলে আমার ঘরে আসবি বইগুলো দেখে পড়বি। আমি বললাম, তার মানে? তুই বললি ওই চিঠিটা আমি এমনি লিখেছিলাম ইচ্ছে করে, তোর মনের কথাটা জানার জন্য। ওটা আমি লিখে রেখেছিলাম অনেক দিন থেকে, শুধু তোর আসার অপেক্ষায় ছিলাম। আমার জীবনে এমন কেউ নেই তুই ছাড়া। আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম, কিছু বলতে পারিনি। চুপচাপ বসে পড়লাম, বললো বল কিছু এবার, শুধুতো শুনে গেলি তখন থেকে। তোর এই চুপচাপটা না আমার ভালোলাগেনা। ওই বকবক করা দুরন্ত মেয়েটা আমার পছন্দ। তবে জানিস তোর এই চুপ্চাপটাও আমাকে অনেক শিক্ষা দিল। ওই বকবক করা, দুরন্ত মেয়েটাও কষ্টপেলে কতটা পাল্টে যেতে পারে। জানিস তোর চোখে আমার জন্য অনেক ভালোবাসা দেখকেছি যেটা কেউ আমাকে বাসতে পারবেনা। আমি বললাম কি বলছিস এসব। তুই বললি কিছুটা ভুল বলিনি। আমি উঠে পড়েছিলাম চলে আসতে যাব, তুই হাতটা ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বললি ছেড়ে জস্না কোনদিন, আমার এত যত্ন কেউ কোনদিন করতে পারবেনা, এত ভালো কেউ বস্তে পারবেনা, এত খেয়াল কেউ রাখতে পারবেনা। তুই চলে গেলে আমি থাকতে পারবোনা। তোর মতযে আমিও তোকে বড্ড ভালোবাসি। আমি তোর চোখের দিকে চেয়ে রইলাম আর দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। তখন তুই তোর হাত দুটো দিয়ে আমার চোখের জল মুছে দিয়ে বললি কাঁদছিস কেন, আমি বললাম সব চোখের জল কষ্টের হয়না, সব হাসি আনন্দের হয়না। তখন তুই আমাকে তোর বুকের মধ্যে টেনে জড়িয়ে ধরলি। ওটা যে কি আনন্দের কি আর বলব। তারপর আমি বললাম, ছাড়  এবার বাড়ি যাই। তুই বললি আর একটু থাকনা। কেন তোর থাকতে কষ্ট হচ্ছে? আমি বললাম কষ্ট হবে কেন, বাড়ি যাবনা নাকি। তুই বললি থেকে গেলে ক্ষতি কি। আমি বললাম দুর, যা তা তুই একটা। আমি তো তোর যা তা হতে চাই। আমি বললাম অনেক হয়েছে, এবার ছাড়, বাড়ি যেতে তো হবে। তুই বললি খালি বাড়ি বাড়ি করছিস কেন? এটাকি তোর বাড়ি নয়? আমি বললাম এটাতো আমারও বাড়ি, তাই না? তুই বললি হ্যাঁ। আমি বললাম ছাড় এবার। তুই বললি তুই তো বললি না তুই আমার কাছে থাকবি কিনা? আমি বললাম এটাও কি মুখে বলতে হবে। তুই বললি আমি জানি তাও তোর মুখে একবার শুনতে চাই। আমি বললাম এত ভালোবাসা, কোথায় ছিলরে এতদিন। তুই বললি ছিল, মনের মনিকোঠায়, সময়ে সবটা বলব বলে, তুইতো আর বললি না, শুধু শুধু ওই চিঠিটা পড়ে আমায় ভুল বুঝে রাগ করে রইলি। আমি হাসলাম। তুই বললি, হাসছিস তুই? আমি বললাম কি করবো? তুই বললি বল তাড়াতাড়ি। আমি বললাম কি? তুই বললি কি মানে, আমি এতক্ষন যেটা শুনতে চাইছি, তাড়াতাড়ি বল। তারপর দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি নিলাম। আমরা ঠিক করলাম আমরা থাকবো।এইভাবে শুরু আমাদের পথচলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নতুন জীবন

ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ