বিচ্ছেদ

কলেজের ছাত্রনেতা অনিক কলেজ ছাত্রী রিয়া দুজনে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড। রিয়া অনিকের গার্লফ্রেন্ড হওয়ার কারনে বাড়তি সুযোগ পায়। কোনো দোকানে গেলে যত লোক থাকুক তাকে আগে ছেড়ে দেয়, সে কোনো অপরাধ করলেও কলেজে কেউ কিছু বলেনা। অনিক রিয়াকে খুব বিশ্বাস করে, আর রিয়া তার সুযোগ নেয়। অনিককে যদি কেউ এসে বলে রিয়াদি অন্য কারুর সাথে ঘুরছে, তাতেও অনিক বিশ্বাস করে না। ঘুরে সেই ছেলেদের বকা-ঝকা করে। একদিন রিয়া একটা ছেলের সঙ্গে রাস্তায় রিক্সায় উঠে যাচ্ছে আর অনিকের এক ফ্রেন্ড, সেও এক ছাত্রনেতা, সে অনিককে ফোন করে বলল, ভাই, রিয়াদিকে দেখলাম একটা ছেলের সাথে রিক্সায় করে যাচ্ছে। অনিক ওই ছেলেটাকে বলল, দেখ ওর কোনো ফ্রেন্ড হবে। এরপর সে আর কিছু না বলে ফোনটি কেটে দিল। দেখতে দেখতে অনিক আর রিয়ার কলেজের পড়াশুনা শেষ হয়ে গেল। রিয়া বাড়ি ফিরে গেল। অনিক পড়ার শেষে ওই কলেজেই থেকে গেল। কলেজের ছাত্রনেতা হিসাবে অনেক কাজ বাড়লো, সেও খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ফোনে কথা হত। অনিক মাঝে মাঝে রিয়ার ফোন ব্যস্ত পেত, জিজ্ঞাসা করলে বলত, বন্ধু, মামা-কাকা এরা ফোন করছিল, অনিকও তার কথায় বিশ্বাস করত। কারণ অনিক রিয়াকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতো এবং প্রচুর ভালোবাসতো। একদিন রিয়া অনিককে ফোন করে বলল, আজ বাবার পছন্দের ছেলে তাকে দেখতে আসবে। তাই শুনে অনিকের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। অনিক ভেঙে পড়েছে। অনিক রিয়াকে বলছে, তুমি তোমার বাবাকে আমাদের সম্পর্কের কথা বলোনি? রিয়া বলল, না। আর আমায় দেখতে এলেকি আর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তুমি চিন্তা করোনা এসব নিয়ে। আর তোমারও আমার বাবাকে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই। অনিকও রিয়ার কথায় বিশ্বাস করে কিছুটা স্বস্তি পেল। রিয়াকে দেখতে বিকেলে পাত্রপক্ষ এল। রিয়া তার পরিবার পাত্রপক্ষের সাথে হেসে-খেলে গল্প করতে লাগল। গল্প করতে করতে রিয়া বলল, আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি, বলে রিয়া উঠে গেল। উঠে গিয়ে অনিককে ফোন করল, যাতে অনিক কিছু বলতে না পারে। অনিক রিয়াকে জিজ্ঞেস করল, ওদিকের কি খবর? রিয়া বলল, ছাড়তো, একটু পরে চলে যাবে ওরা। এই বলে অনিককে আশ্বস্ত করলো। অনিকের সঙ্গে আরো কিছুক্ষন কথা-বার্তা বলে ফোনটা রেখে দিল। প্রায় একঘন্টা পর অনিকের এক ফ্রেন্ড ছুটতে ছুটতে অনিকের কাছে এল। এসে বলল, রিয়াদির সাথে তোর কথা হয়নি? অনিক বলল, এই তো একঘন্টা আগেই হয়েছে, কেন? তখন ছেলেটি অনিককে বলল, তুই রিয়াদির ফেসবুকটা দেখ, রিয়াদি এক্ষুনি একটা ছবি পোস্ট করেছে। অনিক রিয়ার ফেসবুক খুলে যা দেখলো তাতে তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। অনিক রেগে ফোনটা ছুঁড়ে ফেলল। ভেঙে পড়ছে খুব। ছবিটাতে রিয়ার সাথে একটা ছেলের আংটি পরানোর ছবি, রিয়া ক্যাপশনে লিখেছে, আজ থেকে আমরা এক হলাম, আমাদের এতদিনের সম্পর্ক আজ পূর্ণতা পেল। যা অনিক সহ্য করতে পারছিল না। তার বন্ধুটি বলল, ভাই, এই সেই ছেলেটি যার সঙ্গে রিয়াদি রিক্সায় ঘুরে বেড়াত। তখন অনিকের কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। ফোন ব্যস্ত, যেই ছেলের কথা বলতাম, বলতো ওর বন্ধু। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল অনিকের কাছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নতুন জীবন

ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ