ভাই ফোঁটার উপহার
বাড়ি
ফেরার পথে গলি রাস্তাটায়
ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে আছে। বিয়ারের বোতল
হাতে। মুখে ছিলো অকথ্য
গালিগালাজ। প্রতিদিনের মতো আমি গাড়ি
থেকে নেমে হাঁটা শুরু
করেছি। ঘড়িতে বাজে এগারোটা। আমি
প্রতিদিন এই টাইমে বাড়ি
ফিরি। আমি একটা মলে
কাজ করি। তাই ফিরতে
দেরি হয়। আর এই
গলির শেষ বাড়িটা আমাদের।
প্রতিদিনের থেকে আজকের পরিবেশটা
আলাদা। আজ মা কালীর
বিসর্জন। ছেলেগুলো গলির মুখে দাঁড়িয়ে
নানারকমের আতসবাজি ফাটাচ্ছিলো। ফানুস আর আতসবাজির বিভিন্ন
রং এ আজকের আকাশটা
অন্য রকম লাগছে। আমি
এগোতে থাকলাম বাড়ির দিকে। হটাৎ খেয়াল করলাম
ছেলেগুলো আমার সামনে দাঁড়িয়ে
আমার মাথা থেকে পা
অবদি দেখছে। খুব অস্বস্থি হচ্ছে
আমার। কিন্তু আমাকে ওদের সামনে দিয়ে
বাড়ি যেতে হবে। আমি
বাড়ি যাওয়ার জন্য এক পা
এগোতে যেতেই একটা ছেলে আমার
হাতে টান মারলো। আর
একটা ছেলে আমার ইউনিফর্ম
হেঁচকা মেরে এমন টান
দিল যে ,আমার উনিফর্মের
সব বাটন গুলো ছিঁড়েগেলো।
আমি অসহায় ভাবে কঁকিয়ে উঠলাম।
আর ছেলেগুলো চিৎকার করে উঠলো আনন্দে
উল্লাসে। ভোর চারটের দিকে
বাড়ি ফিরলাম জ্ঞান ফেরার পর। ভালো করে
হাটতে পারছিলামনা। সারা দেহ ক্ষত
বিক্ষত, রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারিদিক।
অনেকক্ষন নিজের ঘরে ঢুকে কাঁদছি।
বাড়ির সবাই তখন ঘুমোচ্ছে।
হটাৎ মনে পড়লো আজ
ভাতৃদ্বিতীয়া। নিজেকে স্বাভাবিক করলাম। তারপর স্নান সেরে নতুন জামাকাপড়
পরলাম, চন্দন বাটলাম। তারপর গিয়ে দাদাকে ঘুমথেকে
টেনে তুললাম। প্রতিবছর দাদাকে ঘুমথেকে তুলে ফোঁটা দি।
এবারও দাদাকে ঘুমথেকে তুলে ফোঁটা দিলাম।
তারপর দাদার মুখে একটা সন্দেশ
গুঁজে দিলাম। সন্দেশের ভেতর পটাসিয়াম সায়ানাইডের
এম্পুলে চাপ পড়তেই, দাদার
দেহটা বিছানায় ঢলেপড়লো। আদালতের কাঠগড়ায় আমি সবটা বললাম।
আর আমি এটাও বললাম
আমার উনিফর্মটা সেদিন দাদাই হেঁচকা মেরে টেনেছিল। দাদা
সেদিন নেশায় চুড় থাকায় আমায়
চিনতে পারেনি। আর আমি আমার
দাদাকে তার জন্য যোগ্য
উপহার দিয়েছি। আমি এতটুকুও অনুতপ্ত
নই। কারণ এই সব
ছেলেদের এমন শাস্তি দরকার।
নাহলে আজ আমার ক্ষতি
করেছে, কাল অন্য মেয়ের
ক্ষতি করবে। আর ওর এমন
শাস্তি দেখে অন্য ছেলেরা
যেন কোনো দিন কোনো
মেয়ের ক্ষতি না করে। তাই
ওটাই ওর শাস্তি, আর
ভাইফোঁটার উপহার। এরপর সব রায়
আদালতের। সে বিচারের বাণীতে
যাব্বজীবন নীরবে নিভৃতে কেঁদেই চলেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন