ফিরে পাওয়া

শুভর সঙ্গে শেষ কথা বলার পর থেকেই অনুর মন অন্য রকম। মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়, কান্না পায়। হাতের স্মার্ট ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে সে আকাশ পাতাল ভাবতে শুরু করলো। মনে করছে সেদিনের কথোপকথন.......

অনু --তোমার সঙ্গে অনন্ত কাল থাকার ইচ্ছে, তোমার মধ্যে আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।

শুভ --আমি নিজেই ভাসমান, ঘরপোড়া গরু আমি, তুমি অন্য কথা ভাব।

অনু --আমি নাহয় ভাসবো। খড় কুটোকে কুড়িয়ে নিয়ে ঘর বানিয়ে দুজনে থাকবো।

শুভ --আমি কারুর সাথেই থাকতে চাইনা। আমি স্বাধীন থাকতে চাই। আমায় ভুলে যাও।

তার পরেই ফোন কেটে দেয় শুভ। আর কথা হয়নি। আত্মসম্মানের মাথা খেয়ে অনু বারবার রিং করেছে। ম্যাসেজ করেছে অনেক। কিন্তু কোনো রিপ্লাই পায়নি। ফেসবুক হোয়াটস্যাপ একাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে। অনুর মন তাই খারাপ। যে মন হাসিখুশি ছিল, সে মন আজ বিবর্ণ। সর্বদা পরিপাটি হয়ে থাকা অনুর আজ চুলে জট ধরেছে। সে হাসতে ভুলে গেছে। গান গাওয়া তো দূরে থাক, গানকে ঢুকতে দিচ্ছেনা নিজের মধ্যে। এভাবে বহুদিন পার হলো। অনু আজ অন্য জগতের বাসিন্দা। সে যেন আজ নির্বাক সৈনিক। একদিন কলেজ থেকে বেরিয়ে নন্দিনী যখন বাস এর জন্য অপেক্ষা করছে, ঠিক তখনই ঘটলো ঘটনা। একটা বাইকে করে শুভ এসে দাঁড়ালো তার সামনে। অনুর হৃৎস্পন্দন হলো দ্রুত। অনেক চেষ্টা করে গোপনে রাখলো চোখের জল। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো তুমি? শুভ মুচকি হাসলো। বললো আমি তোমারই আছি। অনুর চোখ দিয়ে এবার মুক্ত ঝরে পড়লো। দুজন দুজনের বুকে মুখ লোকাল।   

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নতুন জীবন

ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ