পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মনের অন্তরালে

রিতু আর মানিক দুজনে পিঠোপিঠি ভাবে মানুষ। মানিকের বাবা চাকরি সূত্রে এখানে এসেছে। আর রিতুর এটা ভাড়া বাড়ি। মানিক রিতুর থেকে তিন বছরের বড়। তাই রিতু মানিককে মানিকদা বলে ডাকে। আর মানিক রিতুকে রিতু বলে ডাকে। দুজনে মারপিট , খেলাধুলো করে। মানিক পড়াশুনোয় ভালো। আর রিতু পড়তে একটুও ভালোবাসেনা। রিতুকে তাই চুলের মুঠি ধরে মারে। তাতে রিতু কিছুদিন রাগ করে আবার সব ভুলে গিয়ে মানিকের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে। রিতু একটু ডানপিটে স্বভাবের। আর মানিক শান্তশিষ্ট। রিতু সারাদিন পড়াশুনো বাদ দিয়ে শুধু পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। গাছের গোড়ায় গোড়ায় ঘোরে। ফল কুড়োয়। মানিকের বাড়িতে গিয়ে সারাদিন বসে থাকে। মেয়ের এই ডানপিটে স্বভাবের জন্য রিতুর বাবা রিতুকে খুব বকাবকি করে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একবার রিতুকে তার বাবা ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তাতেও তার কোনো হেলদোল নেই। এবারে রিতুকে মানিকের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিল। আর মানিকেও তাদের বাড়িতে আসতে বারণ করেছে। তাই কেউ কারুর ...

ফিরে পাওয়া

শুভর সঙ্গে শেষ কথা বলার পর থেকেই অনুর মন অন্য রকম। মাঝে মাঝে মন খারাপ হয় , কান্না পায়। হাতের স্মার্ট ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে সে আকাশ পাতাল ভাবতে শুরু করলো। মনে করছে সেদিনের কথোপকথন ....... অনু -- তোমার সঙ্গে অনন্ত কাল থাকার ইচ্ছে , তোমার মধ্যে আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। শুভ -- আমি নিজেই ভাসমান , ঘরপোড়া গরু আমি , তুমি অন্য কথা ভাব। অনু -- আমি নাহয় ভাসবো। খড় কুটোকে কুড়িয়ে নিয়ে ঘর বানিয়ে দুজনে থাকবো। শুভ -- আমি কারুর সাথেই থাকতে চাইনা। আমি স্বাধীন থাকতে চাই। আমায় ভুলে যাও। তার পরেই ফোন কেটে দেয় শুভ। আর কথা হয়নি। আত্মসম্মানের মাথা খেয়ে অনু বারবার রিং করেছে। ম্যাসেজ ও করেছে অনেক। কিন্তু কোনো রিপ্লাই পায়নি। ফেসবুক ও হোয়াটস্যাপ একাউন্ট ব্লক করে দিয়েছে। অনুর মন তাই খারাপ। যে মন হাসিখুশি ছিল , সে মন আজ বিবর্ণ। সর্বদা পরিপাটি হয়ে থাকা অনুর আজ চুলে জট ধরেছে। সে হাসতে ভুলে গেছে। গান গাওয়া তো দূরে থাক , গানকে ঢুকতে দিচ্ছেনা নিজের মধ্যে। এভাবে বহু...

কাউকে ছোট ভাবা উচিত না

অল্প বয়সে অধিক টাকার মালিক হওয়ায় , কয়লা ব্যবসাই রাজু আজকাল মানুষকে চোখেই দেখেন না। সারাক্ষন অহংকার লেগেই থাকে। যার কয়লা কারখানায় অভয় নামে এক দিনমজুর কাজ করেন। খুবই সহজ-সরল আর পরিশ্রমী। চেহারায় সারাক্ষন হাসি লেগেই থাকে। একদিন রাজু তার গার্লফ্রেন্ড রানীকে ঘুরে ঘুরে তার প্রজেক্টগুলো দেখছিল। এমন সময় অভয় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। ঘাম মুছতে মুছতে যখন অভয় হেঁটে যাচ্ছিল তখন ভুলবশত রানীর সঙ্গে অভয়ের ধাক্কা লাগে। রানী রেগে অভয়ের গালে থাপ্পড় মেরে বললো , তোর কত বড়ো সাহস আমার গায়ে ধাক্কা দিস ? অভয় ভয়ে আমতা আমতা করে বলল ম্যাডাম , আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা মারিনি। এই কথা শুনে রানী আরো রেগে গিয়ে বলল , চুপকর বেয়াদব। ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে আবার মুখে মুখে তর্ক করছিস। তোদের মতো ছোটোলোকদের আমার ভালোকরেই জানা আছে। তারপর রাজুর দিকে তাকিয়ে রানী বললো - এই ছোট লোকের বাচ্চা ময়লা আর শরীরের ঘাম লাগিয়ে আমার জামাটা নষ্ট করে দিল। অথচ তুমি কিছু না বলে তুমি চুপ করে আছো। রাজু তখন অভয়ের গ...

সব ঝুট হ্যায়

সময় বয়ে যায় সময়ের মতো তোমায় ও বইতে হবে তার সাথে। নিজের মনে উঁকি মেরে দেখো -- সব ঝুট হ্যায় -- রিস্তে নাতে। কারুর জন্য বাঁচতে হবেনা তোমায় , তুমি আগে বাঁচো নিজের জন্য। রাস্তার দুই পাশে কতরকমের গাছ , ফুল ফুটিয়ে নিজেকে ভাবে ধন্য। কত কষ্ট করে বেঁচে থাকে ওরা , কারণ , ওদের আছে বেঁচে থাকার অধিকার। তুমিও বাঁচো তোমার মতো করে , বাঁচার অধিকার তোমার , আমার সব্বার। মরুভূমিতে একলা পড়ে থাকা গাছ -- বেঁচে থাকে শিকড়কে গভীরে পুঁতে। তোমায়ও বাঁচতে হবে শুধু নিজের জন্য সব ঝুট হ্যায় -- রিস্তে নাতে। সমস্যা হলো জীবনের এক অঙ্গ , ওরা সবসময় থাকবে আমাদের পাশাপাশি। নিজেদের গুটিয়ে রাখলে চলবেনা আমরা সবাই নিজেকে আগে ভালোবাসি। এখন থেকে তোমার পথচলা হোক শুরু , সামনে এগিয়ে চলো ভয় হীন বুকে। কালকের সকালটা তোমার হোক শুধু , সূর্যের প্রথম আলো পড়ুক তোমার চোখে মুখে। এগিয়ে তোমাকে যেতেই হবে , কেউ যাবেনা এগিয়ে দিতে। নিজের মনে উঁকি মেরে দেখো -- সব ঝুট হ্যায়...

অবিশ্বাস্য

কুকুরটির জীবনযাপন ছিল তুর্কিতে। তুরস্কের অন্যান্য কুকুরদের মতো অনারঙ্গপূর্ণ। তুরস্কের রাস্তায় মানুষের ফেলে দেওয়া খাবার খেয়ে তার দিন কাটতো। কিন্তু হটাৎ একদিন কুকুরটির সাথে ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। যদিও কুকুরটির দিন শুরু হয়েছিল অন্যানো সাধারণ দিনগুলোর মতোই। কিন্তু হটাৎ করে সে একটি ড্রেন এর পাশে চলে আসে। সে একটি গন্ধ পায় এবং সে গন্ধ শুকতে থাকে। তারপর কুকুরটি শুরু করে দেয় অস্বাভাবিক সব ক্রিয়াকলাপ। কুকুরটি সবসময় রাস্তার ধরে একটি কসাইয়ের দোকানের সামনে গিয়ে বসে থাকতো। বসে কসাইয়ের দোকানে আসা ক্রেতাদের মাংস কেনা পর্যবেক্ষণ করতো। হটাৎ একদিন অ্যানি নামে এক যুবতী মেয়ে সেই কসাইয়ের দোকানে মাংস কিনতে আসে। মাংস কিনে বাড়ি ফেরার সময় সে বুঝতে পারে তার পেছনে কুকুরের শব্দ। মেয়েটি মনে করে কুকুরটি হয়তো বেশ ক্ষুধার্থ। এবং মেয়েটির কুকুরটির ওপর খুব মায়া হয়। মেয়েটি তৎক্ষণাৎ সেই কসাই এর দোকানে গিয়ে কিছু হাড় কিনে নেয়। মেয়েটি সেগুলো কিনে বাইরে বেরিয়ে দেখে কুকুরটি দুর থেকে তা...