পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হৃদয়ের মাঝে তুমি

প্রতিদিন ওই একটা পেন আর খাতা নিয়ে বসে পড়ি , নিজের কষ্টগুলো ভুলে থাকার জন্য। ভাবলাম নিজেকে সময়দেই , ব্যস্ত হয়ে পড়ি , লেখালিখি করা শুরু করি , এতে সব ভুলে থাকবো। আর আমার লেখালিখির অভ্যেসটাও বাড়বে। কিন্তু কোনোদিন ভাবিনি , এই লেখালিখি গুলোই কষ্ট গুলোকে ভুলতে দেবেনা। আরও বাড়িয়ে দেবে। তোমার আর আমার ব্রেকআপের পর , আমি প্রচুর কষ্ট পেয়েছি। তাই লেখালিখির মাধ্যমে ভুলে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখো আমি যখন লিখতে বসি , লেখার মতো কোনোকিছু পাইনা। সব লেখাগুলো শুধু তোমাকে ঘিরে। যখনই লিখতে বসি , তোমার স্মৃতি গুলোই বেশি ভিড় করে আসে। তুমি আমার সব লেখার মধ্যে চলে আসো। তুমি কি শান্তিতে থাকতে দেবেনা আমায় ? তুমিতো চলে গেছো , এবার একটু শান্তি দাও। মনে পড়ে - তুমি আমাকে শাপলা তুলে দিতেনা। আমি কত বায়না করতাম তোমার কাছে। অন্যান্য প্রেমিকরা যেমন শাপলা তুলে বেনীকরে তার প্রেমিকার মাথায় পরিয়ে দেয় , তেমন আমার মাথায়ও পরিয়ে দিতে। কিন্তু তুমি বলতে ওগুলো যাতা। ওই নোংরা জলে হয় , আমি হাত দিতে পারব...

তোমার মতো

এই জানোতো , আমার মেয়েটা অনেকটা তোমার মতো স্বভাব চরিত্রের হয়েছে। মাঝে মাঝে অবাক হয়ে চেয়ে থাকি ওর দিকে। ওর জন্মতো তোমার ঔরোজে নয়। তবে কি করে তোমার মতো হয়েছে ? কি করে আমার বা ওর বাবার মতো হলোনা ? অবিকল তোমার স্বভাব চরিত্রের। খুব আশ্চর্য লাগছে তাইনা ? এতো হওয়ারই কথা। আমার গর্ভে যখন ওর বীজ ছিল সুপ্ত অবস্থায় , তখন যে আমি শুধুই তোমার কথা ভাবতাম। শয়নে স্বপনে পুরোনো অতীত মনে পড়তো। সব সময় পেরিয়ে ওর জন্ম হলো। তোমার আমার মিলন হয়নিতো কী হয়েছে ? আমার চিন্তায় শরীরের কোরকে সেই রয়েছে। আজ বহু বছর পর ওকে দেখবে দুচোখ ভোরে। প্রাক্তন হয়েও যে বর্তমানকে পাবে ওরই মধ্যে।

সময় থাকতে দাম দিন

একদিন অফিসে যাবো রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছি। এমন সময় এক বৃদ্ধ রিক্সা নিয়ে আসছেন। আমি হাত   দেখালাম রিক্সা থামানোর জন্য। রিক্সা থামলো, আমি ওই রিক্সায় উঠলাম। কিছুটা যাওয়ার পর ওই চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম , চাচা আপনি এই বয়সে রিক্সা চালান কেন ? আপনার কি ছেলে মেয়ে নেই ? চাচা বললো, মেয়ে নেই , আমার একটি ছেলে আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম দেখেনা আপনাকে ? চাচা বললো দেখে , তেমন নয়। আমি দিতে পারলে দেখে। নাহলে তেমন দেখেনা। আমি চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম , খুব কষ্ট হয়না চাচা ? চাচা আমাকে বললো, এর থেকে বেশি কষ্ট হয় , আমি অতীতে যা ভুল করেছি তার জন্য। কথাটা শুনে আমি চাচাকে বললাম , মানে ? অতীতে কি এমন করেছেন আপনি , যার জন্য এতো কষ্ট পাচ্ছেন ? চাচা তখন বললো , আমি আমার বাবা মার পছন্দে বিয়ে করেছিলাম। মেয়েটা এতটাও সুন্দরী ছিলোনা। তাই আমি প্রথম থেকে ওকে পছন্দ করতামনা। ওকে খুব কষ্ট দিতাম , মারতাম , খেতে দিতামনা ঠিকমতো , অনেক অত্যাচার করতাম ওর ওপর। বিয়ের দুবছরের মাথায় বাবা মা মারা যায়। ব্যস , তখ...

ভাই ফোঁটার উপহার

বাড়ি ফেরার পথে গলি রাস্তাটায় ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে আছে। বিয়ারের বোতল হাতে। মুখে ছিলো অকথ্য গালিগালাজ। প্রতিদিনের মতো আমি গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেছি। ঘড়িতে বাজে এগারোটা। আমি প্রতিদিন এই টাইমে বাড়ি ফিরি। আমি একটা মলে কাজ করি। তাই ফিরতে দেরি হয়। আর এই গলির শেষ বাড়িটা আমাদের। প্রতিদিনের থেকে আজকের পরিবেশটা আলাদা। আজ মা কালীর বিসর্জন। ছেলেগুলো গলির মুখে দাঁড়িয়ে নানারকমের আতসবাজি ফাটাচ্ছিলো। ফানুস আর আতসবাজির বিভিন্ন রং এ আজকের আকাশটা অন্য রকম লাগছে। আমি এগোতে থাকলাম বাড়ির দিকে। হটাৎ খেয়াল করলাম ছেলেগুলো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার মাথা থেকে পা অবদি দেখছে। খুব অস্বস্থি হচ্ছে আমার। কিন্তু আমাকে ওদের সামনে দিয়ে বাড়ি যেতে হবে। আমি বাড়ি যাওয়ার জন্য এক পা এগোতে যেতেই একটা ছেলে আমার হাতে টান মারলো। আর একটা ছেলে আমার ইউনিফর্ম হেঁচকা মেরে এমন টান দিল যে , আমার উনিফর্মের সব বাটন গুলো ছিঁড়েগেলো। আমি অসহায় ভাবে কঁকিয়ে উঠলাম। আর ছেলেগুলো চিৎকার করে উঠলো আনন্দে উল...

শেষবেলায় প্রাক্তন

আজ থেকে বহু বছর আগে, আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল।  কিন্তু তা আজ নেই।  আজ শুধু দুজনে প্রাক্তন।  দুজনের বয়স হয়েছে, দুই জন বৃদ্ধ।  কিন্তু নিয়তির কি পরিহাস, আমাদের শেষবেলায় হটাৎ দেখা।  দুজনের হাতে আছে শুধু উড়ো চিঠি, কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা।  আজ আমরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের অতীতের অস্তিত্বকে সাথে নিয়ে।  কিন্তু দুজনেই চুপ, কারণ আমরা যে আজ শুধুই প্রাক্তন।  মনে মনে বললেম আজ, কি হে? প্রাক্তন হয়ে কি সুখ পেলে? তুমি ছাড়লে শুধু দীর্ঘশ্বাস।  দুঃখ বিনা সুখ হয় কি সম্ভবে? বয়সের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে করি বৃথা সাধনা।  মোহ কেটেছে তো আজ বহু কাল হল, তবুও সান্ত্বনা যে, প্রাক্তন হয়েছি শেষকাল। 

বিরহের সুখ

কে বলে বিরহ শুধু ব্যাথা দেয় ? এ যে এক অনুভূতি , যা শুধু নিজের সাথেই ভাগ করা যায়।   দূরে থেকে ভালোবেসে যে সুখ , তা কাছে পাওয়াতে নেই।   জানালার ধারে একলা মনে , তার কথা ভেবে যে হাসি ঠোঁটে আসে তা পাশে বসাতে নেই।   মনে মনে তাকে ছুঁয়ে দেখার যে মুগ্ধতা , তা হাতে হাত রাখাতে নেই।   বিরহ যে শিখিয়েছে আমায় , মন হারিয়ে যে ব্যাকুলতা ... তা মন দেওয়াতে নেই।

আমার আমি

আমাদের বাস্তব জীবনটা কত কঠিন। যত বড় হচ্ছি , সমাজটাকে চিনতে শিখছি , তত কষ্টগুলো বেড়েই চলেছে। প্রতিটা পদে পদে আঘাত। সেই আঘাতের যন্ত্রনাটা যে কতটা কষ্টের , তা কখনই কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। কাছের মানুষগুলোর কাছ থেকে পাওয়া কষ্টগুলোই বেশি যন্ত্রণাদায়ক। সেগুলো শুধু মনই জানে , কাউকে বলাও সম্ভব নয়। নিজের ভেতরে শুধু নিজে গুমরে মরা। কষ্টগুলো যখন ভিড় করে আসে , তখন কষ্টে - যন্ত্রনায় বুক ফেটে যায়। কিন্তু কি হয়েছে , খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। শুধু কষ্টগুলো চেপে রেখে রেখে মনের ভিতর কষ্টের পাহাড় তৈরি করছি। এত কষ্ট পাওয়ার পরও হাসিমুখে থাকি। কারণ কষ্টটা বোঝার কেউ নেই। কাউকে বললেও বুঝবে না। তাই হাসিমুখে থাকাটা ভালো , কষ্ট লুকিয়ে। যখন রাতে অন্ধকার ঘরে একলা থাকি , তখন কষ্টগুলো ভিড় করে আসে। তখন আর নিজেকে সামলাতে পারিনা। কিন্তু আবার সেই সকাল হলে , হাসিমুখে ঘরের দরজা খুলি। কারণ এই কষ্টটা প্রকাশ করলেও কেউ বুঝবে না। দূরের মানুষগুলো আঘাত দিলে , তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে পারা যায়। কিন্তু ,...